ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বাড়তি বিলের আতঙ্কে গ্রাহকরা, মুখ থুবড়ে পড়ল প্রিপেইড মিটার প্রকল্প

বাড়তি বিলের আতঙ্কে গ্রাহকরা, মুখ থুবড়ে পড়ল প্রিপেইড মিটার প্রকল্প

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ডিমান্ড চার্জ ও বাড়তি বিলের ভয়ে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে আস্থা পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। মাঠ পর্যায়ে নানা অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে তীব্র বাধা দিচ্ছেন তারা। ফলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর অধীনে সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ডিপিডিসি সূত্রে জানা যায়, সংস্থার আওতাধীন এলাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে একটি বিশেষ সংশোধিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ধারাবাহিক বাধার মুখে পড়ে আগামী চার মাসের মধ্যে অবশিষ্ট সাড়ে তিন লাখ মিটার স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন ডিপিডিসি’র জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠ পর্যায় ও নারায়ণগঞ্জের চিত্র

বিভিন্ন স্থানে অপপ্রচারকারীরা প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মসজিদে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’ ও ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ নামের কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে গত ২২ জুলাই ডিপিডিসি’র প্রধান প্রকৌশলীর (দক্ষিণ) কাছে স্মারকলিপি দিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। এর ফলে ওই এলাকায় মিটার স্থাপনের কাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিভিন্ন স্থানে গোলটেবিল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডিমান্ড চার্জ ও বিলের আসল তথ্য

ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটারে ভূতুড়ে বিলের কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী:

  • প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের বিপরীতে ৪২ টাকা হারে ডিমান্ড চার্জ এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট কাটা হয় (যেমন, ২ কিলোওয়াটে ৮৪ টাকা)।

  • ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কোনো মাসে রিচার্জ করা না হলে পরবর্তী রিচার্জে তা সমন্বয় করা হয়।

  • নিরাপত্তা জামানত লাগে না এবং গ্রাহকরা রিচার্জ করা এনার্জির ওপর সরকার কর্তৃক ০.৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) পান।

ডিপিডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন জানান, প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ডিমান্ড চার্জ ও বাড়তি বিল হতে পারে বলে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সবাইকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ডিপিডিসি’র প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর) মোহাম্মদ তারিকুল হক বলেন, “প্রিপেইড মিটার একটি টেকনোলজি প্রুভেন প্রযুক্তি। এতে ভূতুড়ে বিলের কোনো সুযোগ নেই। বিল সংক্রান্ত কিছু ঝামেলা যা ছিল, তা সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।”

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব

৮৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পটির মূল সময়সীমা ছিল ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। তবে বৈদেশেক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের প্রতিরোধের মুখে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ডিপিডিসি’র পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের সময়সীমা আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, অনলাইন ও মোবাইল ফোনে সহজ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, শতভাগ রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস কমানো এবং উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতেই ডিপিডিসি এলাকায় স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার ও অ্যাডভান্স মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সচেতনতার অভাব ও অপপ্রচারের কারণে পুরো প্রকল্পটিই এখন ঝুঁকিতে পড়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে