ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বরগুনায় লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

বরগুনায় লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

বরগুনায় ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ এবং বিদ্যুতের অচলাবস্থা নিরসনসহ ৭ দফা দাবিতে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ঘেরাও ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ‘বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি’র ব্যানারে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-র বরগুনা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, জেলার অন্তত ১০ লাখ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

কর্মসূচি থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতির সন্তোষজনক উন্নতি না হলে বরগুনা বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে এবং আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ওজোপাডিকোর স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ৭ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

বরগুনায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ‘বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি’র ব্যানারে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-র বরগুনা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং ঘেরাও কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরগুনার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র দাবদাহ ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার জেলে মাছ সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

পায়রা ও তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতি নষ্ট করে কয়লা পুড়িয়ে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে সারা দেশের চাহিদা মেটানো হলেও বরগুনা জেলা পাচ্ছে চাহিদার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। নিজের অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়া সত্ত্বেও বরগুনার মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না—এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।”

সমাবেশ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বরগুনার বিদ্যুৎ সংকট নিরসন ও ৭ দফা দাবি আদায়ের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে বরগুনা বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে দেওয়া সহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদল ওজোপাডিকোর বরগুনা কার্যালয়ের কর্মকর্তার নিকট ৭ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন। বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচির বক্তব্যে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বরগুনায় বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। বরগুনা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা মাত্র ৬ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াটসহ সব মিলিয়ে জেলায় মোট ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হয়। কিন্তু এ চাহিদার বিপরীতে বরগুনায় আজ মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই জেলায় ঘনঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে তালতলীতে কয়লা ভিত্তিক এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও আমাদের চাহিদা পূরণ না করে উৎপাদিত ওই বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বরগুনার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে লোডশেডিং বন্ধসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত। আমাদের এ অঞ্চলের পরিবেশের ক্ষতি হলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে মাত্র ১২ মেগাওয়াটও আমরা পাচ্ছি না। এটি অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জাজনক। আমাদের দাবি একটাই, উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে বরগুনা জেলার চাহিদা পূরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে বরগুনা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বরগুনা সদরে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৬ মেগাওয়াট, সেখানে সকালে আমরা পেয়েছি সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। এজন্য বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ চেষ্টা করছি। মূলত এটি জাতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ সংকটের অংশ। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংও কমে আসবে।

ঘেরাও কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে বরগুনার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনসহ ৭ দফা দাবিতে বরগুনার দুটি আসনের সংসদ সদস্য, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে