ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

নব প্রকাশ প্রতিবেদন:
টানা কয়েকদিন তাপদাহের পর আজ রোববার ঢাকা সহ বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে সাত জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন।
রোববার ঢাকাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, চলতি মাসের বাকি কয়েকটি দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে চলমান তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে
গাইবান্ধা
গাইবান্ধা জেলায় আজ রোববার বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন।
মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক মো. হাসান ইকবাল সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৌসুমের শুরুতেই বজ্রপাতে উপজেলায় একজনের মৃত্যু হলো। এটি ওই পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।
সাত জেলায় আজ রোববার বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের পর আজ রোববার ঢাকাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, চলতি মাসের বাকি কয়েকটি দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে চলমান তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।
জামালপুর
জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)। আর আহত ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহত ব্যক্তিদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক মো. হাসান ইকবাল সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৌসুমের শুরুতেই বজ্রপাতে উপজেলায় একজনের মৃত্যু হলো। এটি ওই পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বজ্রপাতে একজন কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।’
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মারা যাওয়া সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি মাত্র আট দিন আগে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।
হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে ধামোর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে চা-বাগানের পাশেই ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তাঁর সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন।
নাটোর
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্রাটসহ কয়েকজন মিলে কেটে রাখা ধান গ্রামে আউয়ালে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঝড়–বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধানের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে অন্য শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে।
মারা যাওয়া সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশে মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে যান কৃষক সুমন। মাঠে পৌঁছামাত্র বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিব হাসান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে ।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে