নবপ্রকাশ ডেস্ক
ঢাকা | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ স্বার্থ রক্ষায় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভারতে সব সময়ই উষ্ণ অভ্যর্থনার দুয়ার উন্মুক্ত রয়েছে এবং তিনি যথাসময়ে এই সফর সম্পন্ন করবেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সম্পর্কের নতুন মাত্রা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক কেবল ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়; বরং এর মূলে রয়েছে দুই দেশের অভিন্ন স্বপ্ন, ঐতিহাসিক মেলবন্ধন ও ভৌগোলিক বাস্তবায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় রাষ্ট্রই সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও একটি গতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমানভাবে বিশ্বাসী। একজন প্রকৃত বন্ধু ও দায়িত্বশীল প্রতিবেশী হিসেবে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
সীমান্তহীন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পরিবেশগত সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর কোনো ভৌগোলিক সীমানা কিংবা চলাচলের জন্য ভিসার প্রয়োজন হয় না। একইভাবে, এক দেশের দূষণ কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় পরিবেশ রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের তাগিদ দেন তিনি। ভারতের হাইকমিশনার জানান, সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দু’দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হাতির অবাধ যাতায়াত বা মাইগ্রেশন সহজতর করতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া দুই দেশের নীতিপ্রণেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘কার্বন ক্রেডিট’ বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
কপ সম্মেলনে যৌথ পদক্ষেপের প্রত্যয়
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান। এই সুসম্পর্কের ওপর ভর করে আঞ্চলিক পরিবেশ রক্ষা এবং সুন্দরবনের সার্বিক টেকসই উন্নয়নে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ) বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন স্বার্থরক্ষায় বিশ্বমঞ্চে একযোগে কাজ করবে বলেও তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে মজবুত স্তম্ভ হলো জনগণের মধ্যকার গভীর যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট)। কূটনৈতিক ও উচ্চপর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিই এই অঞ্চলের প্রকৃত অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
প্রধানমন্ত্রীর বহুল আলোচিত ভারত সফর প্রসঙ্গে ভারতীয় দূত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানের ভারত সফরের জন্য সার্বক্ষণিক আমন্ত্রণ রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়েই তা অনুষ্ঠিত হবে।
