নবপ্রকাশ ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকা
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে প্রয়োগ করা না গেলে এসব সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।” বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকতা খুব ভালো হলেও বাস্তবায়ন ও শেখার জায়গায় বড় ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই মানসিকতার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে মূল্যবান মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুর্ঘটনা কমাতে হলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের বদলে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে তার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
কর্মশালায় মন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সুপারিশ তুলে ধরেন:
-
জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার: সরকারের ব্যয়ের হিসাব থাকলেও অর্জনের ক্ষেত্রে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। প্রকল্পের বিশাল ব্যয় থেকে যা শেখা হচ্ছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
-
সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন: সড়ককে কেবল চলাচলের পথ নয়, বরং ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। রাস্তা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার অপেক্ষা না করে বড় ক্ষতির আগেই সংস্কার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
-
পুলিশের বিশেষায়িত বিভাগ গঠন: সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পৃথক ও বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বে ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
-
চালকদের দক্ষতা ও আইন মানা: দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, গতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, মোটরসাইকেল চালকদের বাধ্যতামূলক হেলমেট ব্যবহার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনীতে একটি নিরাপদ, স্মার্ট ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করার যৌথ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
