রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এবার নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে নতুন নির্ধারিত পোশাকে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক সার্জেন্টের দেখা মেলে। নতুন পোশাক পরিহিত ওই সার্জেন্ট জানান, প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিটের সদস্যদের এই নতুন পোশাক দেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট স্বাভাবিক নিয়মে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ করছেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট বলেন, “প্রথম পর্যায়ে আমাদের কিছু সদস্যকে নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের কাছেও এই ইউনিফর্ম পৌঁছে যাবে।”
নতুন ইউনিফর্মে আগের গাঢ় নীল রঙের পরিবর্তে আকাশি-নীল শার্ট এবং খয়েরি রঙের ট্রাউজার ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাপ, কাঁধের ব্যাজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পোশাকের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ইউনিফর্ম, মনোগ্রাম ও পরিচয়চিহ্নের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই নীতিমালার আলোকে বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় ধাপে ধাপে নতুন পোশাক সরবরাহ ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু পোশাক পরিবর্তনই নয়, আধুনিক পুলিশিং, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং বাহিনীর পেশাদার ভাবমূর্তি আরও সুসংহত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ইউনিফর্ম এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনকালে সদস্যরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
রাজধানীর ব্যস্ত বাংলামোটর মোড়ে নতুন পোশাক পরিহিত ট্রাফিক সার্জেন্টকে দেখে অনেক পথচারী ও চালকের মধ্যেও কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ নতুন ইউনিফর্মকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। আবার অনেকে মনে করেন, পোশাকের পরিবর্তনের পাশাপাশি জনবান্ধব আচরণ, দ্রুত সেবা এবং সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।
বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং সেবার মান উন্নয়নের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। নতুন পোশাকের পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের সব ইউনিটের সদস্যদের একই ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে।
