ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পরীমণি-কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে

পরীমণি-কাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চিত্রনায়িকা পরীমণি-র সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও দায়িত্ব পালনে আচরণগত অসঙ্গতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ওই বছরের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্ত চলাকালে পরীমণির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরীমণি নিয়মিত সাকলায়েনের বাসায় যাতায়াত করছেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করছেন। এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পর সাকলায়েনকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়।

বিভাগীয় তদন্তে উঠে আসে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সাকলায়েন সরকারি দায়িত্বের বাইরে পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন সময়ে পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও তার এই আচরণ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রত্যাশিত নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে এটি একটি গুরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আচরণগত সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়েও একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে