ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » দেড় হাজার কোটির জমি দখল: ২১ বছরের সিন্ডিকেট

দেড় হাজার কোটির জমি দখল: ২১ বছরের সিন্ডিকেট

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মূল সড়কসংলগ্ন প্রিমিয়াম এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকা মূল্যমানের ১১ একর জমি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দখলে রয়েছে। রাজউকের মালিকানাধীন জমি হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অসাধু যোগসাজশ ও দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ঝুলে থাকা আইনি জটিলতাকে পুঁজি করে সেখানে মাছ, মুরগি ও বাঁশের আড়ত বসিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। একই সাথে ওই জমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে জমানো সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার সাধারণ মানুষ, যাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

নথিপত্র অনুযায়ী, তদানীন্তন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৬২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৩’-এর ৯৩-এ ধারায় বাড্ডা মৌজায় সিএস দাগে ১১ একর জমি অধিগ্রহণ করে। একই বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসন এলএ কেস (নং ১৩৮/৬১-৬২) আদেশের মাধ্যমে জমিটির আনুষ্ঠানিক দখল ডিআইটিকে বুঝিয়ে দেয়। ১৯৮৭ সালে ডিআইটি পরিবর্তিত হয়ে রাজউক গঠিত হলেও জমিটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হয়নি।

ভূমিটি বেদখল মুক্ত করতে ২০০৫ সালে রাজউকের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের পর পরই সংক্ষুব্ধ পক্ষ ও বিভিন্ন সমিতির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একের পর এক রিট আবেদন করা হয়। গত দুই দশকে ২০০৫ সালে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী, একই বছর উচ্ছেদ বিরোধী একটি গ্রুপ এবং ২০০৭ সালে মেরুল কাঁচাবাজার সমিতিসহ রাজউকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি রিট মামলা দায়ের করা হয়, যা আজ অবধি অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম এ বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, রাজউকের আইনি লড়াই পরিচালনা করার লোক থাকলেও অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় কাজ না করায় এই সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে আছে।

বর্তমানে রামপুরা ব্রিজ থেকে কিছুটা সামনে সড়ক ঘেঁষে এই মূল্যবান সরকারি জমিতে অবৈধ বাঁশের আড়ত, মৎস্য আড়ত, বিশাল বস্তি ও অবৈধ কাঁচাবাজার গড়ে উঠেছে। এমনকি ২৭.৫০ শতাংশ জমির ওপর ব্যক্তিমালিকানার দাবি করে আমমোক্তার মোহাম্মদ শরীফ ভূঁইয়া ও বাবু চন্দ্র দাসের নামে সাইনবোর্ড টাঙানো দেখা গেছে।

এদিকে জমিটির আইনি অস্পষ্টতাকে পুঁজি করে ১৯৮৮ সালে গঠিত ‘মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতি’ আধুনিক মার্কেট বানিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বল্পমূল্যে দোকান দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। চক্রটি গত দুই যুগে সদস্যপদ প্রদান, সদস্যপদ হস্তান্তর ফি, আইনি লড়াইয়ের খরচসহ নানা অজুহাতে রসিদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০০৫ সালে রাজউকের উচ্ছেদের পর মতিঝিলে কার্যালয় স্থানান্তর করে ভূয়া আশ্বাস দিয়ে কিস্তির টাকা তোলা অব্যাহত রাখে চক্রটি।

সমিতির সদস্য মো. হুমায়ুন কবির ও মো. রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ১৬-২০ বছর ধরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কিস্তি ও চাঁদা দিয়েও তারা কোনো দোকান পাননি; উল্টো জমানো আমানত উধাও হয়ে গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মেরুল কাঁচাবাজার দোকানদার সমিতির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহীন বলেন, অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকা লুটপাটের কারণে গত ১০ বছর ধরে সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জমিটি রাজউকের স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, শংকর নামের একপক্ষ আইনি জটিলতা তৈরি করায় এবং রাজউকের সাথে বিরোধের কারণে তারা জমিটি বুঝে পাননি। এমনকি ২০০৫ সালের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তারা রাজউকের নামে ২৫ কোটি টাকার মামলাও ঠুকে দিয়েছেন।

চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখল হওয়া এবং ভূয়া সমিতির ফাঁদে সাধারণ মানুষের ৩০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অবিলম্বে এই প্রভাবশালী চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা এবং প্রতারিত পরিবারগুলোর টাকা ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে