নবপ্রকাশ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নথিবিহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে (নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোনো রাষ্ট্র) স্থানান্তরের ওপর নিম্ন আদালতের আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সর্বোচ্চ আদালতের ৯ বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের করা এক জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের আগের দেওয়া একটি রায় স্থগিত হলো, যেখানে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি ও আইনি শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। নিম্ন আদালতের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো অভিবাসীকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের পূর্বে গন্তব্য দেশটির নাম উল্লেখ করে তাঁকে পূর্বনির্ধারিত নোটিশ দিতে হবে, যেন তিনি ওই দেশে নিজের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে যুক্তি ও উদ্বেগ তুলে ধরার সুযোগ পান।
সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের বেঞ্চে ভোটাভুটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় এলেও তিন বিচারপতি আবেদনটি মঞ্জুর করার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাসন নিশ্চিত করতে কঠোর সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রশাসনের যুক্তি, অনেক সময় নথিবিহীন অভিবাসীদের নিজ দেশ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায় বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে, ফলে তৃতীয় দেশে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার যুক্তি দেন, ‘জঘন্য বিদেশি অপরাধীদের’ দ্রুত বিতাড়িত করতে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা অপরিহার্য এবং নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তটি এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে বড় কাঠামোগত বাধা তৈরি করছিল।
অন্যদিকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার বিরোধীরা যুক্তি দেন, নিম্ন আদালত তৃতীয় দেশে স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ করেনি, বরং তা আইনি কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট নিয়মে করার নির্দেশ দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার জনকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে এবং আরও বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
