ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত: নীরবে বাড়ছে প্রাণঘাতী খাদ্যদূষণ ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি

তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত: নীরবে বাড়ছে প্রাণঘাতী খাদ্যদূষণ ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি

মো নাইমুর রহমান-
প্রকৃতির রুদ্ররূপে বর্তমানে দেশের প্রতিটি প্রান্ত যেন আগুনের উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন নাজেহাল দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই এখন তীব্র দাবদাহের দাপট। সূর্য যেন আগুন ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে, আর সেই উত্তাপে পুড়ছে মাঠ-ঘাট, শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পথের প্রাণীকুল—সবার জীবনই আজ ক্লান্ত, বিপর্যস্ত ও তৃষ্ণার্ত। দিনের পর দিন বৃষ্টির দেখা না মেলায় মাটিও যেন রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এই তাপপ্রবাহ খুব শিগগিরই কমার কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
এই অস্বাভাবিক গরমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ইতোমধ্যেই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাইরে বের হওয়া মানেই যেন অগ্নিপরীক্ষা। গরম বাতাস, ঘামে ভেজা শরীর, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা—সব মিলিয়ে জনজীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। কিন্তু এই প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে যে একটি নীরব, অথচ ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমশ বেড়ে চলেছে, তা অনেকেই হয়তো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন না। সেটি হলো ‘ফুড পয়জনিং’ বা খাদ্যদূষণজনিত অসুস্থতা।
আমাদের দেশে গরমের দিনে রাস্তার পাশে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া খাবারের সংখ্যা বেড়ে যায়। আইসক্রিম, শরবত, ফলের রস, ফুচকা, চটপটি কিংবা বিভিন্ন ধরনের নাস্তা—এসব খাবার অনেক সময়ই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে সহজেই সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু জন্ম নেয়। অস্বাস্থ্যকর পানি, অপরিষ্কার হাত, খোলা পরিবেশ—সব মিলিয়ে এসব খাবার হয়ে ওঠে ফুড পয়জনিংয়ের প্রধান উৎস।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সংক্রামক রোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পচা, বাসি ও অনিরাপদ খাবার থেকে সৃষ্ট বিষক্রিয়া। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্র পরিবেশে মাধ্যমে Salmonella, Escherichia coli (E. coli) বা Shigella, Vibrio cholerae (কলেরার জীবাণু), Hepatitis A virus এবং বিভিন্ন পরজীবী (যেমন Giardia, Entamoeba) সহজেই খাবারে প্রবেশ করতে পারে এবং জীবাণুর বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত ঘটাতে পারে । বেশিরভাগ খাদ্যবাহিত ব্যাকটেরিয়া ৫°C থেকে ৬০°C তাপমাত্রার মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পায়—এই পরিসরকে “danger zone” বলা হয়। গরমের সময় পরিবেশের তাপমাত্রা প্রায়ই ৩০–৪০°C এর মধ্যে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ।
গরমকালে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে–ব্যাকটেরিয়া প্রতি ২০–৩০ মিনিটে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে রান্না করা খাবার যদি ২ ঘণ্টার বেশি ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাতে জীবাণুর সংখ্যা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে । ভাত, মাছ, মাংস, ডিম এবং দুধজাত খাবার এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে, কারণ এগুলোতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান ও আর্দ্রতা থাকে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
এই প্রক্রিয়াটি শুধু জীবাণুর সংখ্যাবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আণবিক স্তরে নানা জটিল পরিবর্তন ঘটে। ব্যাকটেরিয়া খাবারের মধ্যে বিভিন্ন এনজাইম নিঃসরণ করে, যা প্রোটিন, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটকে ভেঙে ছোট ছোট অণুতে পরিণত করে। প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কার্বোহাইড্রেট ভেঙে সরল শর্করা তৈরি হয়। এই ভাঙন প্রক্রিয়ার ফলে নতুন রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়, যা খাবারের স্বাভাবিক গঠন ও গুণগত মান নষ্ট করে। একই সঙ্গে কিছু ব্যাকটেরিয়া বিপজ্জনক টক্সিন উৎপন্ন করে, যেমন Staphylococcus aureus–এর তৈরি হিট-স্টেবল এন্টারোটক্সিন বা Bacillus cereus। এই টক্সিনগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই তাপ সহ্য করতে পারে, অর্থাৎ খাবার পুনরায় গরম করলেও টক্সিন নষ্ট হয় না।
এর পাশাপাশি খাবারের চর্বিতে অক্সিডেশন প্রক্রিয়া ঘটে, যার ফলে পারঅক্সাইড ও ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা শরীরে প্রবেশ করে কোষের ক্ষতি করতে পারে। একই সময়ে খাবারের pH পরিবর্তিত হয়, কারণ ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় কার্যকলাপের ফলে অ্যাসিড বা ক্ষারীয় পদার্থ তৈরি হয়। এই পরিবর্তনগুলো খাবারকে আরও দ্রুত নষ্ট করে এবং জীবাণুর বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কিছু ঘটার পরও অনেক সময় খাবার দেখতে বা গন্ধে স্বাভাবিক মনে হয়, কারণ সব ধরনের টক্সিন দৃশ্যমান পরিবর্তন সৃষ্টি করে না। ফলে মানুষ অজান্তেই দূষিত খাবার খেয়ে ফেলে।

খাদ্যদূষণ বা ফুড পয়জনিং এর লক্ষণ –
খাদ্যদূষণ বা ফুড পয়জনিং হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ (লক্ষণ) দেখা দেয়, যা সংক্রমণের ধরন, জীবাণুর প্রকৃতি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে —

১. বমি ও বমিভাব
ফুড পয়জনিংয়ের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বমি। দূষিত খাবারের টক্সিন পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে শরীর তা দ্রুত বের করে দিতে চায়, ফলে বমি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই লক্ষণ দেখা দেয়, বিশেষ করে টক্সিন-জনিত সংক্রমণে (যেমন Staphylococcus aureus)।
২. ডায়রিয়া
ডায়রিয়া খাদ্যদূষণের একটি প্রধান ও সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া লক্ষণ, যেখানে অন্ত্রে জীবাণু বা তাদের তৈরি টক্সিন প্রবেশ করার ফলে স্বাভাবিক শোষণ (absorption) প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অন্ত্রের ভেতরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট (যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম) ধরে রাখা সম্ভব হয় না এবং সেগুলো মলের সাথে দ্রুত বের হয়ে যায়, যার কারণে বারবার পাতলা পায়খানা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ডায়রিয়া পানির মতো তরল হয় (watery diarrhea), যা সাধারণত ভাইরাস বা কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে দেখা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের দেয়ালে প্রদাহ (inflammation) তৈরি হলে রক্ত বা শ্লেষ্মাযুক্ত পায়খানা হতে পারে, যা তুলনামূলকভাবে গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ—যেমন Escherichia coli (E. coli) বা Shigella সংক্রমণে দেখা যায়। ডায়রিয়ার সাথে সাথে পেটের ভেতরে অস্বস্তি, গ্যাস তৈরি, এবং হঠাৎ পায়খানার চাপ অনুভূত হয়, যা রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে।
৩. পেট ব্যথা ও ক্র্যাম্প
পেট ব্যথা ও ক্র্যাম্প মূলত অন্ত্রের পেশীর অস্বাভাবিক সংকোচনের কারণে হয়। জীবাণু ও তাদের টক্সিন অন্ত্রের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে, ফলে অন্ত্রের পেশীগুলো বারবার সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এর ফলে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা (cramping pain) অনুভূত হয়, যা কখনো হালকা আবার কখনো খুব তীব্র হতে পারে এবং সাধারণত ডায়রিয়ার আগে বা সময়ে বেশি অনুভূত হয়। এই ব্যথা মাঝে মাঝে কমে আবার হঠাৎ বেড়ে যায়, কারণ অন্ত্রের গতিশীলতা (motility) অনিয়মিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও ক্র্যাম্পের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পানি-শূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা অবহেলা করলে গুরুতর অবস্থায় রূপ নিতে পারে।
৪. জ্বর
যদি শরীরে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়, তাহলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে জ্বর সৃষ্টি করে। সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি জ্বর দেখা যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে (যেমন Salmonella) জ্বর বেশি হতে পারে।
৫. দুর্বলতা ও ক্লান্তি
বমি ও ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়, ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং কাজ করার শক্তি কমে যাওয়া সাধারণ লক্ষণ।
৬. ডিহাইড্রেশন
এটি সবচেয়ে গুরুতর জটিলতাগুলোর একটি। লক্ষণগুলো হলো—
অতিরিক্ত পিপাসা
মুখ শুকিয়ে যাওয়া
প্রস্রাব কমে যাওয়া
মাথা ঘোরা
শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ ডেবে যাওয়া
ডিহাইড্রেশন মারাত্মক হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
৭. মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা
অনেক সময় শরীরে সংক্রমণের কারণে মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা দেখা যায়। এটি শরীরের ইমিউন প্রতিক্রিয়ার একটি অংশ।

৮. গুরুতর লক্ষণ
কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যদূষণ মারাত্মক রূপ নিতে পারে। যেমন—
রক্তমিশ্রিত পায়খানা
বারবার বমি হওয়া (পানি পর্যন্ত রাখতে না পারা)
উচ্চ জ্বর (৩৮.৫°C এর বেশি)
ঝিমুনি বা অচেতনতা
শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে দ্রুত অবনতি
অতিরিক্ত ডায়রিয়া ও বমির কারণে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন) তৈরি হয়, দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র সংক্রমণ কিডনি সমস্যা, অন্ত্রের প্রদাহ বা সেপসিসের মতো জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে ,যা জীবননাশের ঝুঁকিও তৈরি করে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
এই লক্ষণগুলো সাধারণত খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা থেকে ১-২ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়
খাদ্যদূষণ প্রতিরোধে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি—
১. রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রাখা
রান্না করা খাবার ২ ঘণ্টার বেশি ঘরের তাপমাত্রায় রাখা উচিত নয়। গরমের সময় এই সময়সীমা আরও কমে যেতে পারে। খাবার যদি সংরক্ষণ করতে হয়, তাহলে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে। বারবার গরম-ঠান্ডা করা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়ে।
২. খাবার ভালোভাবে রান্না করা ও গরম অবস্থায় খাওয়া
খাবার এমনভাবে রান্না করতে হবে যাতে ভেতর পর্যন্ত পর্যাপ্ত তাপ পৌঁছায়। বিশেষ করে মাংস, ডিম ও মাছ ভালোভাবে সিদ্ধ হওয়া জরুরি। রান্নার পর যত দ্রুত সম্ভব গরম অবস্থায় খাওয়া নিরাপদ। কারণ তাপ অনেক জীবাণুকে ধ্বংস করে, তবে পরে ঠান্ডা হলে আবার জীবাণু জন্মাতে পারে।
৩. ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ
ফ্রিজের তাপমাত্রা সাধারণত ৪°C বা তার নিচে রাখা উচিত। কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা করে সংরক্ষণ করা জরুরি, যাতে ক্রস-কন্টামিনেশন না ঘটে। খাবার ঢেকে বা সিল করে রাখতে হবে, যাতে বাইরের জীবাণু প্রবেশ করতে না পারে। দীর্ঘদিন খাবার ফ্রিজে জমিয়ে রাখাও ঠিক নয়—সময়মতো ব্যবহার করতে হবে।
৪. বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি ব্যবহার
সবসময় ফুটানো বা পরিশোধিত পানি ব্যবহার করা উচিত। পানির উৎস নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। পানির পাত্র পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত হতে হবে, এবং হাত ডুবিয়ে পানি নেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। বরফ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে—অপরিষ্কার পানি দিয়ে তৈরি বরফ খাদ্যদূষণের বড় কারণ হতে পারে।
৫. ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
ফল ও সবজি খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে লবণ পানি বা হালকা জীবাণুনাশক দ্রবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক সময় এসব খাদ্যের গায়ে কীটনাশক বা জীবাণু লেগে থাকে, যা না ধুলে শরীরে প্রবেশ করে।
৬. রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা
খোলা পরিবেশে তৈরি খাবার ধুলো, মাছি ও দূষিত পানির সংস্পর্শে আসে। তাই যতটা সম্ভব রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যদি খেতেই হয়, তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি ও গরম অবস্থায় পরিবেশিত খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
৭. ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা
খাওয়ার আগে ও পরে, এবং রান্নার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে সহজেই জীবাণু খাবারে ছড়িয়ে পড়ে। রান্নার সময় পরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার করা এবং অসুস্থ অবস্থায় (যেমন ডায়রিয়া বা ত্বকের সংক্রমণ থাকলে) খাবার প্রস্তুত না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা
যদি ডায়রিয়া বা বমি ২ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, রক্তমিশ্রিত পায়খানা হয়, অথবা প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ওআরএস (ORS) সেবন করে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে