ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের আকস্মিক গোপন বৈঠক

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের আকস্মিক গোপন বৈঠক

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ইরান যুদ্ধের পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ এবং ইয়েমেনে বাড়তে থাকা সৌদি আরব-হুতি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা দল ক্যাম্প ডেভিডে এক অতীব গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে আগে থেকে কোনো ঘোষণা না দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় পুরো শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা টিমকে নিয়ে এমন গোপন বৈঠক আয়োজনকে বেশ অস্বাভাবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

ক্যাম্প ডেভিড মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, জাতীয় সংকটের মুহূর্তে চরম গোপনীয়তা বজায় রেখে নীতি নির্ধারণী আলোচনার ক্ষেত্রেও স্থানটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে থাকতে পারে। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ডেভিডে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক এর আগে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। কাকতালীয়ভাবে সেই গোপন বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে এবারও ক্যাম্প ডেভিডে নিরাপত্তা টিমের এই ঝটিকা উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের বড় ধরনের সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপের আগাম বার্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন তেহরানের সঙ্গে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা ও চুক্তি পুনর্বহালের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। কূটনৈতিক গতিপথ স্থবির হয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে পুনরায় নতুন করে বড় আকারের সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “এখন আমাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে— হয় তেহরান আমাদের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, নয়তো তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।”

শুক্রবার কর্মকর্তাদের এই গোপন বৈঠক চলাকালীন সাংবাদিকরা যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ইরান সংক্রান্ত পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ জানতে চান, তখন তিনি তা রহস্যময় রেখে বলেন, “আমি যদি এখনই আপনাদের তা জানিয়ে দিই, তবে সেটি এক বিশাল খবর হয়ে যাবে। তবে কেবল এটুকু বলি, পরিস্থিতি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে এগোচ্ছে এবং বর্তমানে ইরানের অবস্থা একেবারেই সুবিধার নয়।”

ইরান ইস্যুর পাশাপাশি ইয়েমেনে কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সৌদি আরবের পরিকল্পনা এবং হুতিবিরোধী আসন্ন বড় সামরিক অভিযান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জানা গেছে, ইয়েমেনি স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা প্রদান করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হুতিদের দখলমুক্ত করতে রিয়াদ প্রস্তুতি জোরদার করছে। সেই অভিযানে ওয়াশিংটনকে পাশে পাওয়ার বিষয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের কৌশল কী হবে, তা-ও এই গোপন বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে