ব্যাঙ্ককের গভর্নর জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাজধানীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং খালগুলোর পানি বেড়ে গেছে। এতে খালের পাশের অনেক বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রের উত্তরে একটি খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী বিক্রেতা সোমকিদ ফেউকঙ্গাম বলেন, ‘পানি ঢুকতেই আছে। এখন বাইরে বের হওয়া কঠিন। পানি আমার কোমর পর্যন্ত উঠে গেছে।’
এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও যেতে পারছি না।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রায় একটানা বৃষ্টির কারণে ব্যাঙ্ককের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।
ব্যাঙ্ককের দক্ষিণ-পূর্বের অন নাট এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এএফপির সাংবাদিকেরা সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটুসমান পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে এবং বাড়িঘরে পানি ঢোকা ঠেকাতে বালির বস্তা তৈরি করতে দেখেছেন।
ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাডচার্ট সিট্টিপন্ট জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আরো বৃষ্টির পূর্বাভাসের কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, বৃষ্টি এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। পানি পাম্প করে সরানোর চেষ্টা করা হলেও শহরের খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। গভর্নর বলেন, খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ বর্তমানে ব্যাঙ্ককের প্রায় সব খালেই পানি বেড়ে গেছে।
জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল শয্যাশায়ী রোগীদের সাময়িকভাবে হাসপাতালে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চাডচার্ট। তিনি বাসিন্দাদের গাড়ি নিরাপদ রাখতে সেগুলো উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।
এদিকে ব্যাঙ্ককের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ অক্টোবর পর্যন্ত গাড়ি রাখার জন্য এমআরটি ট্রেনের ‘পার্ক অ্যান্ড রাইড’ পার্কিংগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য থাইল্যান্ডে আগামী রবিবার পর্যন্ত নিম্নচাপের প্রভাব থাকতে পারে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং নদীর পানি উপচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
