জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালাগালি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দ্বারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং শারীরিকভাবে আঘাত করতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার এবং সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন জনসংযোগ অফিসের রিপোর্টার হাফিজুর রহমান। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (১৯ মে) পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’, ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। তারা সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সংগঠনটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাবি শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৭ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা প্রক্টরকে ঘিরে মারমুখী পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
