টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে পৌঁছেছে। এখনো বিভাগের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার বসতঘর, শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক এবং সেতু-কালভার্ট।
রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এছাড়া কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে মারা গেছেন ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন। এছাড়া কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে একজন করে মোট দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ২২ হাজার ৬০০ মানুষ অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন, কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন রয়েছেন।
বন্যায় কক্সবাজারে ৪৮ হাজার ৬৩টি, বান্দরবানে ১৫ হাজার ৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ২৮১টি, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৭৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে এ পর্যন্ত ৯২৩ মেট্রিক টন চাল, ৭ হাজার ২৮১ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
