স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। নিউ ইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনা ০-০ স্পেন সমতায়। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল কৌশল, শৃঙ্খলা ও স্নায়ুর লড়াই, যেখানে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণভাগই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন—দুই ফুটবল পরাশক্তির এই ফাইনালকে ঘিরে ছিল বিশ্বজুড়ে তুমুল আগ্রহ। প্রত্যাশা ছিল গোলবন্যার, তবে প্রথমার্ধে সেই প্রত্যাশার বদলে দেখা গেছে অত্যন্ত সতর্ক ও হিসেবি ফুটবল। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে কোনো দলই স্পষ্ট আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন তাদের স্বভাবসুলভ ছোট ছোট পাসে খেলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অপেক্ষা করেছে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগের জন্য। তবে দুই দলের রক্ষণভাগ ছিল দুর্দান্ত সংগঠিত। ফলে বক্সের ভেতরে পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়েছে।
অভিজ্ঞ অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে শুরু থেকেই নিবিড় মার্কিংয়ে রাখে স্পেনের ডিফেন্ডাররা। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ আক্রমণভাগকেও কার্যকরভাবে আটকে রাখেন আর্জেন্টিনার রক্ষণসৈনিকরা। মাঝমাঠে ট্যাকল, বল কেড়ে নেওয়া এবং পজিশন ধরে রাখার লড়াইয়ে ম্যাচটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
দুই গোলরক্ষককেই প্রথমার্ধে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। দূরপাল্লার কয়েকটি প্রচেষ্টা এবং কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি কোনো দল। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় উভয় দল।
এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগ, অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে স্পেন। সেই কারণেই প্রথমার্ধে দুই দলই অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে রক্ষণাত্মক ও কৌশলগত ফুটবল বেছে নিয়েছে। ([Reuters][3])
এখন নজর দ্বিতীয়ার্ধে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। তাই দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোলের সন্ধানে দুই দলই কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন দ্বিতীয়ার্ধে—দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে উঁচিয়ে ধরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।
