ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ১০ জুলাই, চলছে বাংলা ব্লকেড

গণঅভ্যুত্থানের দিনলিপি: ১০ জুলাই, চলছে বাংলা ব্লকেড

নবপ্রকাশ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোর শুরুর দিকে ১০ জুলাই ২০২৪, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। সুপ্রিম কোর্ট চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস-কো) বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রধান বিচারপতির সংযত থাকার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা।

দুপুরের দিকে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন, হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালের রায় আপাতত কার্যকর হবে না। ফলে অন্তত এক মাসের জন্য ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্রই বহাল থাকবে।

পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ‘ভুল বোঝাবুঝির ফল’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘তারা যা করেছে, তা প্রশংসনীয় নয়। তবে আমি মনে করি, তারা ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটি করছে। তারা আমাদের সন্তান। স্লোগান শুনে কোনো রায় দেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায়ের যথার্থতা মূল্যায়নের এখতিয়ার কেবল আপিল বিভাগেরই রয়েছে। এ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে বোঝাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করেন।

তবে আদালতের এই নির্দেশ আন্দোলনকারীদের অবস্থান বদলাতে পারেনি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোটা সংস্কারের জন্য সরকার কমিশন গঠন এবং এ বিষয়ে সংসদে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে সকালে শিক্ষার্থীরা আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, মহাসড়ক ও রেলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

সকাল প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে মিছিল নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। একই সময়ে আরেকটি দল চানখারপুল মোড় অবরোধ করে। অন্যদিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের কাছে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ফার্মগেট-মিরপুর এবং আগারগাঁও-মহাখালী সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে টানা প্রায় সাত ঘণ্টা অবরোধ চালায়। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর বাইরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ি এলাকায় চার ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পায়রা সেতু এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

রেল যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ঢাকায় শিক্ষার্থীরা দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং অবরোধ করে রাখায় দেশের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দেওয়ানহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ অবরোধ করেন। এতে অন্তত পাঁচটি ট্রেন আটকা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে দুপুর ১টার দিকে নগরীর টাইগারপাস সড়কও অবরুদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর শিক্ষার্থীরা জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেন। প্রথমে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে পরে তারা রেল জংশনে গিয়ে বসেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ব্যানারে কোটা সমর্থক একটি দল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তারা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানান।

সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের বার্তা ছিল স্পষ্ট—কোটা ব্যবস্থার আইনগত ও কাঠামোগত সংস্কারে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে