ক্ষমতার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই, চলছে জংলি শাসন’: এনসিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, এই চুক্তি করার সময় তাদের মতো শরিক বা অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই চুক্তিটি সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেছে তারা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতারা এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, ঈদ পরিস্থিতি, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন নেতারা।
‘জনগণের ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ’
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন ঈদুল আজহার সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন:
সড়কে চাঁদাবাজি: ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়ক ও রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাতায়াতে ভোগান্তি: জনগণকে নির্বিঘ্নে ঘরমুখো করার ক্ষেত্রে এবং নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে এবারও সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
অবৈধ পশুর হাট: ঈদকে সামনে রেখে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাস্তাঘাটে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে অবৈধ কোরবানির হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
‘সংস্কারের কথা বললে সরকার নার্ভাস হয়ে পড়ে’
একই সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জংলি ও জঙ্গি’ শাসনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “দেশে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সংস্কারের কথা বললেই সরকার নার্ভাস বা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ক্ষমতার ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্য কেউ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে।”
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। আমরা মাঠে থাকবোই; আমাদের মেরে ফেললেও আমরা কোনো আপস করবো না।”
ঝিনাইদহের হামলা ও ‘রক্ষী বাহিনী’ প্রসঙ্গ
ঝিনাইদহে সম্প্রতি নিজের ওপর হওয়া হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ঝিনাইদহে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয়। সেই ডিম আমার চোখে এসে পড়লে আমি চোখে ঝাপসা দেখছিলাম। ঠিক তখনই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পুলিশও আমাদের ওপর রক্ষী বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “ঝিনাইদহে হামলার পর মামলা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়িমসি করেছে। আমি থানা থেকে বের হওয়ার পর আমাদের ওপর কয়েক হাজার লোক অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমি তখন কালেমা পড়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থানার সামনে বসে পড়েছিলাম। সরকার এখন পুলিশকে রক্ষী বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ভারতের কাঁটাতার দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, দুই দেশের একসঙ্গে বসে বাংলাদেশের প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে তারপর যেন কাঁটাতার দেওয়া হয়।
সীমান্ত নীতি নিয়ে এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন:
সীমান্তে সরকারের যে ধরনের কঠোর ব্যবস্থাপনা থাকার কথা, তা বর্তমানে অনুপস্থিত।
সীমান্তে সাংবাদিকতা বা বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট করার কারণে অনেক সাংবাদিককে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
এনসিপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং তাঁদের ‘শহীদী মর্যাদা’ দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও, সীমান্তের ওপার থেকে আসা মাদকের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার গভীর পাঁয়তারা চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
