ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ অকৃতকার্য৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই

এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ অকৃতকার্য৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই

জহিরুল ইসলাম রাতুল: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের লাখো শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

এবারের ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ থেকে কমে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬। অর্থাৎ জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬টি।
শিক্ষাবোর্ডের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার শুধু পাসের হারই কমেনি, সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় এটিকে ফলাফলের একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণ ৯ বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
এই নয় বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। ফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার কমেছে।

ফলাফলে এবারও ছাত্রীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলে পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফল—দুই ক্ষেত্রেই মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাতেও কমেছে ফল
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও সমমানের পরীক্ষার্থীরাও এবারের ফলাফলে অংশ নিয়েছে। ১১টি বোর্ডের সম্মিলিত ফলাফলে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলও সার্বিক পাসের হারে প্রভাব ফেলেছে।

২০২৬ সালের ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি উদ্বেগের। কোনো প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শিক্ষকসংকট, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শতভাগ পাসও করেছে শত শত প্রতিষ্ঠান
খারাপ ফলের পাশাপাশি ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ফলে একদিকে যেমন শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্যও শিক্ষা ব্যবস্থার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁস, নকল ও পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করা হয়।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রথমে ২০ জুলাই প্রকাশের কথা জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১০ আগস্ট একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত নতুন তারিখ অনুযায়ী সোমবার সকালে ফল প্রকাশ করা হয়।
চার বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ অর্ধেকের নিচে
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যার দীর্ঘমেয়াদি চিত্রও এবার আলোচনায় এসেছে। ২০২২ সালে রেকর্ড ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে সেই সংখ্যা কমেছে। ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯২৬ জন।
এ পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশ্নের ধরন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে ফলাফল দেখতে পারছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি। যারা ভালো ফল করেছে, তারা পছন্দের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নেবে। অন্যদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সামনে রয়েছে পরবর্তী সুযোগ ও নতুন করে প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ।
এবারের ফলাফলে সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে আসা, প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া, জিপিএ-৫ কমে যাওয়া এবং ৩১২টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। এসব ফলাফলের কারণ বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের অন্যতম বড় দায়িত্ব।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে