সংবাদদাতা, কক্সবাজার:
একরাম মিয়ার চোখের সামনেই হাতির পায়ের তলায় জীবন দিল স্ত্রী আছমা বিবি এবং তিন বছরের মেয়ে ছেমন আরা। আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের রামু উপজেলায় একদল বন্য হাতির কবলে পড়ে একরাম মিয়া এবং তার পরিবার। পুত্রকে কোলে নিয়ে দৌড়ে পালাতে পারলেও স্ত্রী এবং কন্যা ক্ষুধার্ত হাতির কবল থেকে রক্ষা পেল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর পাঁচটার দিকে লোকজনের হইচই শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া। বাইরে বেরিয়েই দেখেন একদল বন্যহাতি দল বেঁধে তাদের দিকেই ধেয়ে আসছে। এমন অবস্থায় পুত্রকে কোলে নিয়ে একরাম পালাতে পারলেও স্ত্রী এবং কন্যার সেই সুযোগ ছিল না। ফলে তাদের জীবন চলে যায় হাতির পায়ের তলায়।
রামুর সৈয়দ কলোনির বাসিন্দা কৃষক বেলাল উদ্দিন বলেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এসব হাতি সৈয়দ কলোনির কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। লোকজনের হইচই শুনে ঘর থেকে বের হন তিনি। বেরিয়েই পড়ে যান হাতির সামনে। এ সময় একরাম মিয়া ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। আর ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ের মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের ধোয়াপালং বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসেছিল। ঘটনার পর পালটিকে বনে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ নিহত মা-মেয়ের সুরতহাল সম্পন্ন করে। দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।
