ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইসি অভিমুখে কংগ্রেসি ঝড়: ব্যারিকেডে উঠে রাহুলের তীব্র প্রতিবাদ, আটক শীর্ষ নেতৃত্ব

ইসি অভিমুখে কংগ্রেসি ঝড়: ব্যারিকেডে উঠে রাহুলের তীব্র প্রতিবাদ, আটক শীর্ষ নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনীতি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবন থেকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA bloc) সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পথিমধ্যে পুলিশ কড়া ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। বাধার মুখে ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগ কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশবাহিনী। কড়া নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ব্যারিকেড ও জল কামান মোতায়েন ছিল। ব্যারিকেডের মুখে পড়ে রাহুল গান্ধী সশরীরে লোহার ব্যারিকেডের শীর্ষে উঠে পড়েন। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলে কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্য জোটনেতারাও যোগ দেন। হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা এবং ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা সংবলিত ব্যানার নিয়ে সড়কে বসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন বিরোধী দলীয় এমপিরা।

প্রতিবাদ চলাকালীন স্থানটিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যায়। তবে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের নিকটস্থ আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে নিজেদের অবস্থান জোরালো করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুল গান্ধী কড়া বার্তা দিয়ে লেখেন, “জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।”

কেন এই তুমুল বিক্ষোভ?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে গত কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী জোটের তীব্র বিরোধ চলছে। বিরোধী দলগুলোর মারাত্মক অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার অজুহাতে বেছে বেছে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বিধি লঙ্ঘন করে ফর্ম-৬ পরিবর্তন করা হয়েছে। মূলত নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতেই মঙ্গলবারের এই সংসদীয় পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলোর এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে আসছে।

সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে মামলা

এদিকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের দায়িত্ব পালন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ থেকে সোমবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক শুনানিতে কেবল অভিযোগ ও সংবাদভিত্তিক দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কাজ থেকে বিরত রাখার অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। বিচার বিভাগ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই প্রক্রিয়ার পর সরকার ও কমিশনের দেওয়া জবাব দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ আদালত।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে