‘বস্তা’ নয়, ছিল লাশ : ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালকে বলেন, রানার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ২০-২৫ দিন পর এক রাতে জিয়াউল আহসান তাঁকে র্যাব-১-এর সামনে যেতে বলেন। সেখানে দুইটি কালো হায়েস মাইক্রোবাস ছিল। একটি মাইক্রোবাসে উঠে তিনি দেখেন, জিয়াউল আহসান, র্যাব-১-এর তৎকালীন সিও রাশেদ, ক্যাপ্টেন কাউসারসহ কয়েকজন ভিতরে আছেন। জিয়াউল আহসান তাঁকে বলেন, পেছনে একটি ‘বস্তা’ আছে, সেটি ফেলে দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, গাড়িটি রাতের বেলা টঙ্গীর দিকে একটি রেললাইনের কাছে গিয়ে থামে। সেখানে মাইক্রোবাসের পেছনের অংশ খুলে বস্তা নামাতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আসলে একটি ঠান্ডা মৃতদেহ। পরে অন্যদের সহায়তায় তিনি লাশটি রেললাইনের পাশে নিয়ে রাখেন। এরপর জিয়াউল আহসানসহ অন্যরা লাশটি রেললাইনের ওপর রাখেন। কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন চলে গেলে তাঁরা সেখান থেকে ফিরে আসেন। এই ঘটনার পর কয়েক দিন তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ইমরুল।
এ ছাড়া ২০১২ সালের মাঝামাঝি জাফলং সীমান্তে দুই আসামিকে ভারতীয় পক্ষের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ফেরার পথে আলাদা আলাদা স্থানে গাড়ি থামিয়ে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ আছে। একপর্যায়ে র্যাব-৪-এর সেফ হাউস থেকে নেওয়া দুই আসামির একজনকে একটি নির্জন স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বলেও বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। একইভাবে আরেকটি ঘটনায় কাঁচপুর ব্রিজের ওপর নিয়ে গিয়ে দুই ‘টার্গেট’কে গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথাও জবানবন্দিতে এসেছে।
