ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শনিবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।এর আগে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।এরপর ওই এলাকায় কয়েকটি আফটারশক হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালাতে দ্রুত কাজ শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ভোরের দিকে ভূমিকম্পের পর দেশটির কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে। ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামির সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান সুহারিয়ান্তো এক টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুজন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি জানান, প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
শহরের উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রিজেন্সির প্রধান শহর ও বন্দরনগরী মাউমেরে উদ্ধারকর্মীরা ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাজেকেওতে এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মাউমেরে শহরের উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান। তিনি জানান, গাড়িতে করে নাজেকেও যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। আরেকটি উদ্ধারকারী দল ফেরিতে করে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নাজেকেও থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ভবন ধসে পড়ায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রয়টার্স যাচাই করা ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাউমেরের একটি বন্দরে একটি ভবনের কিছু অংশ ধসে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যাচ্ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের ওপর অবস্থিত। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল এবং অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এ কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
