ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » আশা ভোসলের পছন্দের সেরা ১০ গান

আশা ভোসলের পছন্দের সেরা ১০ গান

বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে আশা ভোসলের কণ্ঠ এক অনন্য অধ্যায়। প্রায় আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। রোমান্টিক গান থেকে গজল, ধ্রুপদি সংগীত থেকে পপ কিংবা ক্যাবারে—প্রায় সব ধরনের গানেই ছিল তাঁর স্বতন্ত্র দখল।

লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে—দুই বোনের মধ্যে কে সেরা, এমন প্রশ্নের সহজ উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন। সুরকার রাহুল দেববর্মন একবার বলেছিলেন, আশাকে দিয়ে প্রায় যেকোনো ধরনের গান গাওয়ানো সম্ভব। তবে এমন কিছু গানও রয়েছে, যেগুলো লতা ছাড়া যেন কল্পনাই করা যায় না।

গীতিকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গুলজারও দুই বোনের তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, যেন একই সময়ে দুজন মানুষ চাঁদে পৌঁছেছিলেন। প্রথমজনের ঐতিহাসিক কীর্তি নিয়ে এতটাই আলোচনা হয়েছে যে দ্বিতীয়জনের অবদান অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে। তাঁর সেই ‘দ্বিতীয় মানুষ’ ছিলেন আশা ভোসলে।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পী মাত্র ১০ বছর বয়সে সংগীতজগতে পা রাখেন। এরপর ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠের বৈচিত্র্য ও গায়কির স্বাতন্ত্র্যে তৈরি করেন আলাদা পরিচয়। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, তামিল, গুজরাটিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিপুল জনপ্রিয়তার সময়ে সংগীতজগতে পথচলা শুরু করলেও নিজের জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি সময় লাগেনি আশার। বিশেষ করে ও পি নাইয়ার ও রাহুল দেববর্মনের সুরে তাঁর গাওয়া গান হিন্দি চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

‘পিয়া তু আব তো আজা’র মতো প্রাণবন্ত গান যেমন তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ভিন্ন আবেদন, তেমনি ‘উমরাও জান’-এর ‘ইন আঁখোঁ কি মাস্তি’র মতো গজলেও তিনি দেখিয়েছেন নিজের অসাধারণ সক্ষমতা। গানের ধরন বদলালেও কণ্ঠের আবেগ ও প্রকাশভঙ্গিতে তিনি ছিলেন অনন্য।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন আশা ভোসলে। ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণের পাশাপাশি পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও দুবার মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

গত ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতের একটি দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

তবে শিল্পীর মৃত্যুতে থেমে যায়নি তাঁর কণ্ঠের যাত্রা। অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে আজও শ্রোতাদের কাছে জীবন্ত আশা ভোসলে। আর নিজের গাওয়া হাজারো গানের মধ্য থেকে তাঁর পছন্দের গানগুলোর তালিকাও তাই ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে