ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ১ম বারের জুলাই হত্যাকাণ্ডে মামলায় সাক্ষী বৈরী ঘোষণা

১ম বারের জুলাই হত্যাকাণ্ডে মামলায় সাক্ষী বৈরী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের এক সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়েছে। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ওই সাক্ষী প্রসিকিউশনের প্রত্যাশিত বক্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে ঘোষণা করে জেরা করার উদ্যোগ নেয় প্রসিকিউশন। কোনো পক্ষের ডাকা সাক্ষী সেই পক্ষের মামলার পক্ষে প্রত্যাশিত বক্তব্য না দিয়ে বিরূপ বা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিলে তাকে বৈরী বা ‘হোস্টাইল’ সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল এবং ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এই মামলায় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ, আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মামলার বিচারপর্বে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাক্ষী ও নথি উপস্থাপন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করার ঘটনা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ফৌজদারি মামলায় কোনো পক্ষের সাক্ষী আদালতে এসে আগের জবানবন্দির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিলে কিংবা তাকে উপস্থাপনকারী পক্ষের মামলাকে সমর্থন না করলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করা যায়। এ ধরনের সাক্ষীকে সাধারণভাবে ‘বৈরী সাক্ষী’ বা ‘হোস্টাইল উইটনেস’ বলা হয়।
তবে কোনো সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা মানেই তার দেওয়া সব বক্তব্য আদালত বাতিল করে দেবেন—এমন নয়। সাক্ষীর কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং কোন অংশ বিশ্বাসযোগ্য নয়, তা মামলার সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করবেন।
ফলে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের নিজস্ব সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করার বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা চলছে। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, নথিপত্র, যোগাযোগের তথ্য, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মামলাতেও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে প্রসিকিউশনের জেরা করার বিষয়টি মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সাক্ষী বৈরী হওয়া কিংবা কোনো সাক্ষীর বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মামলার সব সাক্ষ্য, নথি, আলামত ও উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে