ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » স্বৈরাচার ফেরানোর পথ তৈরি করা জুলাই ও ৭১-এর সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচার ফেরানোর পথ তৈরি করা জুলাই ও ৭১-এর সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে অন্ধ বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশে পুনরায় স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাইয়ের বীর শহীদ ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের সঙ্গে চরম গাদ্দারি করার শামিল হবে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের মহাসমারোহে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ

জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের স্বজনদের পাশে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতির কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আজকের এই অনুষ্ঠানে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদেরও সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আপনাদের মতপার্থক্য বা দূরত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু যাদের জীবনদান, অঙ্গহানি আর রক্তক্ষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যের মর্যাদা উপভোগ করছেন—সেই শহীদ ও আহতদের স্বজনদের পাশে এসে বসার উদারতাটুকু তো আপনাদের দেখানো উচিত ছিল।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিরোধী দল যদি সত্যিই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করে, তবে এই শহীদ পরিবারের পাশে তাদের উপস্থিতি থাকা অবশ্য কর্তব্য ছিল। দেশবাসী দেখছে আপনারা কেবল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছেন। তবে মনে রাখবেন, এই অন্ধ বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি হয়, তবে তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”

গঠনমূলক রাজনীতি ও জুলাই-একাত্তরের এক অভিন্ন লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী বীরদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য একদম একই ছিল। সেই লক্ষ্য ছিল—এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং একটি নিরাপদ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

পুরাতন রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংসদে বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও গঠনমূলক। পুরোনো জেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আটকে থাকলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”

বিএনপি জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধকে সমানভাবে ধারণ করে

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে এনেছে এবং বিএনপিকে সরকার পরিচালনা ও অন্য দলগুলোকে বিরোধী দলের দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাইয়ে আহত সংগ্রামীদের সুচিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্যানে নির্মিত ৯‌০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জনেরও বেশি জুলাই শহীদের নাম খোদাই করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ কেবল একটি কাঠামো নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে যে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কতটা গুরুভার।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে