আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জ্বালানি ও সামরিক কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আবারও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদ, দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক শহর ইয়ানবুর আকাশে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হামলাকারী ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি নিশ্চিত করে জানান, লোহিত সাগরের ওপর দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে তিনটি বিধ্বংসী ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। হুতিরা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সহায়তায় চরম আধুনিক ব্যালিস্টিক প্রযুক্তি ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র প্রবাহ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলায় নিহত ৪, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সদরদপ্তর ও ‘আল-মাশাইক’ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এতে অন্তত চারজন নিহত হন এবং ভবন এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়।
অন্য এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, ব্রিটেনের তৈরি সৌদি আরবের একটি দামি ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান আকাশসীমায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি উচ্চগতির বিমানে আগুন ধরে তা ধ্বংস হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট সালাম’ চুক্তির অধীনে ৪৪৩ কোটি পাউন্ডের বিনিময়ে ৭২টি টাইফুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল সৌদি আরব।
ইয়ানবু ও তেল স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় কৌশলগত তেল বন্দর ইয়ানবু ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় সরাসরি নিজেদের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানো শুরু করেছে ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভরো বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পূর্বঘোষিত সামরিক সহায়তা চুক্তির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বন্ধ রিয়াদ-দাম্মাম বিমানবন্দর: প্রবাসীদের বিকল্প রুটে যাত্রা
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তীব্র যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল চরম বিঘ্নিত ও বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই সৌদি নিয়োগকর্তাদের (কফিল) কড়া তাড়াহুড়োয় প্রবাসীরা নির্ধারিত রুটের টিকেট পরিবর্তন করে মদিনা ও জেদ্দাগামী বিকল্প রুটে কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষারত প্রবাসী কর্মী রাসেল জানান, কফিলের জরুরি নির্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী বাতিল টিকেট পরিবর্তন করে তিনি অতিরিক্ত খরচ করে মদিনার টিকেট সংগ্রহ করেছেন। রাসেল বা বাবলু ভূঁইয়ার মতো হাজারও সৌদি প্রবাসীর এখন একমাত্র দুশ্চিন্তা—কোনমতে বিকল্প আকাশপথে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে তাঁদের।
