ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সীমান্তে উত্তেজনা: ক্ষমা না চেয়ে কিমের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সীমান্তে উত্তেজনা: ক্ষমা না চেয়ে কিমের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আহত দক্ষিণ কোরীয় সেনাদের ঘটনার দায় নিতে এবং ক্ষমা চাইতে সিউলের দেওয়া আনুষ্ঠানিক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। শুধু ক্ষমার প্রস্তাব নাকচই নয়, শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পূর্বে কৌশলগত অঞ্চল থেকে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে নিজেদের অনমনীয় ও কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করেছে পিয়ংইয়ং।

ফরাসি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাতে জানা যায়, শনিবার ভোরের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের দিকে অবস্থিত পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) পতিত হওয়ার আগে প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য সামরিক বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ডিএমজেড-এর ভেতরের একটি টহল পথ পরিষ্কারের সময় আকস্মিক মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) যৌথ নিরপেক্ষ তদন্তে উঠে আসে যে, সীমান্তের দক্ষিণ অংশে অতি সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ঘটনাটিকে ১৯৫৩ সালের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির নজিরবিহীন ও স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সর্বসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় এবং সীমান্তে যেকোনো প্রকার নতুন মাইন পোঁতা ও সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের তাগিদ দেয়।

তবে উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের অত্যন্ত প্রভাবশালী বোন ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিম ইয়ো জং শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সিউলের যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সিউলকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে জানান, এ ঘটনার সাথে পিয়ংইয়ং কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয় এবং ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

দুই দেশের মাঝে বিদ্যমান বিরোধ আরও নতুন মাত্রা পায় ২০২৪ সালে, যখন কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তাঁর দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সীমান্ত পুরোপুরি বিচ্ছিন্নকরণের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তারই অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত মাইন স্থাপনসহ ভারী সামরিক ট্যাংক প্রতিরোধে বিশালাকার দেয়াল ও প্রতিবন্ধক নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।

শনিবারের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ত্রিদেশীয় সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় জোরদার করেছে। যেকোনো প্রকার সম্ভাব্য উসকানি ও আগ্রাসন মোকাবিলায় সর্বাত্মক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সিউল ও তার মিত্র সামরিক বাহিনী।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে