ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়: গয়েশ্বর

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়: গয়েশ্বর

 

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ধর্মকে পুঁজি বা ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে কখনো রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এ দেশের ঐতিহ্য, নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার মেলবন্ধনেই জাতীয়তাবাদী শক্তির ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা কারও ভোটাধিকার ছিনতাই করিনি, আর কাউকে বেহেশতের টিকিট দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসও দিইনি। এরই মধ্যে এক নারীকে কাল্পনিকভাবে বেহেশতে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচারণা চালানো হয়েছে। ধর্মব্যবসা দিয়ে দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।”

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত আদর্শে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি ও মিত্র দলগুলো দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “কেউ কথায় কথায় লংমার্চ বা শর্টমার্চের হুমকি দিচ্ছে, আবার কেউ দেশে ফেরার আকুতি প্রকাশ করছে। উনার (শেখ হাসিনা) দেশে ফেরাতে তো আমাদের কোনো বাধা নেই, আমরা চাই উনি ফিরে আসুন এবং আদালতের চলমান যাবতীয় আইনি বিচারপ্রক্রিয়া ফেস করুন।”

ভারতের সাথে শেখ হাসিনার সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, শেখ হাসিনা ভারতকে অকাতরে অনেক কিছু দিয়েছেন। তিনি নিজেই একসময় প্রকাশ্যে বলেছিলেন—তাদের যা দেওয়া হয়েছে, তা ভারত আজীবন মনে রাখবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্নে সমগ্র জাতিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “দেশের অস্তিত্বে টান পড়লে কেবল সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনীই নয়, পুরো ১৮ কোটি জনগণ একসঙ্গে জেগে উঠবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিশৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের সার্বিক পরিস্থিতিতেও নজর রাখা প্রয়োজন।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্রকে সঠিক ও সুশৃঙ্খল পথে ফেরাতে আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই যেকোনো গণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন করা যেতে পারে এবং সেটি অবৈধ কোনো পথ নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা তারেক রহমানের তোষামোদ বা চাটুকারিতা করব না, বরং প্রয়োজনবোধে তাঁকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে এই মুহূর্তে দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপিতে তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বেই দেশ বহুদূর এগিয়ে যাবে।” একই সাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত নস্যাতে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পিএনপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন অপশক্তি বর্তমানে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁতারা চালাচ্ছে। তাই গণতন্ত্রের ধারা সমুন্নত রাখতে এবং দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সকল বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা করা উচিত।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে