ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » মাধ্যমিকের পরই ঝরে যাচ্ছে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

মাধ্যমিকের পরই ঝরে যাচ্ছে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

মাধ্যমিক পরীক্ষার পরই লেখাপড়া থেকে ঝরে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবারের পরিসংখ্যানে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের ঝরে পড়ার চিত্র উঠে এসেছে ।

২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াদের মধ্যে দুই বছর পর ২০২৬ সালের এইচএসসিতে ছিটকে পড়েছে ৪৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এই পরিসংখ্যানে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীর ৭ লাখ ২৪ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেনা এবারের এইচএসসিতে।

বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের নথি অনুসারে, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। বাকি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৩ জনই অনিয়মিত, প্রাইভেট কিংবা এক বা একাধিক বিষয়ের মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী’।

ঝরে পড়ার লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছিলেন ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ ছাত্রী এবং ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩ ছাত্র। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ৫ লাখ ২ হাজার ৮৬৫ ছাত্রী এবং ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৭ ছাত্র।

দুই বছরে শিক্ষাজীবন থেকে সরে গেছে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৩৫ ছাত্রী এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৯৬ ছাত্র। ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার যেখানে ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। সেই দিক বিবেচনায়, সংখ্যার বিচারে ছাত্রী ঝরে পড়ার সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও শতকরা হারের দিক থেকে ছাত্ররাই বেশি ঝরে পড়েছে।

তথ্যবিশ্লেষণে ঝরে পড়ার হারে শীর্ষে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ঝরে গেছে। এরপরই যশোরে ৩৭ দশমিক ৫০ ও চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ঝরে পড়ার হার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, যার ঠিক ওপরেই রয়েছে রাজশাহী বোর্ড ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সাধারণ বোর্ডের তুলনায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ঝরে পড়ার হার আরও বেশি আশঙ্কাজনক। মাদ্রাসা বোর্ড আলিমে নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন; কিন্তু পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ৭৮ হাজার ২৬৯ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ ৬১ হাজার ৬৬০ ছাত্রছাত্রী আলিম পরীক্ষার মূল স্রোত থেকে ছিটকে গেছেন। কারিগরি বোর্ডে ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে ভয়াবহ। এখানে নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছেন মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। অর্ধেকেরও বেশি— অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না ৯০ হাজার ৩৪৫ ছাত্রছাত্রী।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের মতে, নিবন্ধিত সব শিক্ষার্থীই যে ঝরে পড়েছেন, তা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। কারণ ব্যক্তিগত বা অ্যাকাডেমিক কারণে এক বছর বিরতি (গ্যাপ) দিয়ে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নেন অনেক শিক্ষার্থীই।’ তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ে এবং অনেকের বিদেশ চলে যাওয়ার প্রবণতাই ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ার প্রকৃত কারণ এবং এর স্থায়ী সমাধান খোঁজার বিষয়ে জানতে চাইলে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, রেজিস্ট্রেশন করেও এত শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার কারণ বের করতে গত বছর এসএসসির পর কয়েকটি উপজেলায় চলে পাইলট জরিপ। যে জরিপে বাল্যবিয়ে, ছেলেদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে কর্মসংস্থানে যুক্ত, বিদেশ চলে যাওয়া প্রধান কারণ হিসেবে বের হয়। বিশেষ করে, দেশের উত্তরাঞ্চল, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় জেলাগুলোয় এ প্রবণতা অনেক বেশি।

এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয়কে নয়, বরং যেসব অঞ্চলে এ ধরনের প্রবণতা বেশি, সেসব অঞ্চলে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গত বছরের গবেষণা প্রতিবেদন আমরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কাজ করেছে।’

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও আমাদের দেশে মাধ্যমিক স্তরটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। শিক্ষকসংকট থেকে শুরু করে এই স্তরে রয়েছে নানামুখী ঘাটতি ও উদাসীনতা। কী কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছেন, তা নিখুঁতভাবে জানার জন্য এক দশক আগে ‘ইউনিক আইডি’ প্রকল্প নেওয়া হলেও তার কার্যকারিতা নেই। এই বিষয়ে সরকার সচেতনভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শিক্ষার্থী ঝরে পরা রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে