নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস মোড়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে সোমবার (১০ আগস্ট) প্রথম প্রহরের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মগবাজার ওয়্যারলেস মোড়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-থ ১৪-৬০১৪ এবং মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ২৩-৯৬২৫ বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় কিছু সময় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে একটি লরির সম্পৃক্ততার কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে লরি কীভাবে বা আদৌ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিচয়, তাদের মধ্যে কে সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী এবং কে মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে দুর্ঘটনায় আরও কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা অন্য কোনো যানবাহনের ধাক্কা—কোন কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় কার, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর অন্যতম মগবাজার এলাকায় দিন-রাত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দ্রুতগতির ভারী যানবাহন, মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ওয়্যারলেস মোড়সহ মগবাজার এলাকায় অতীতেও একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
