নবপ্রকাশ ডেস্ক:
বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে মার্কিন কোস্টগার্ড। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের নানটকেট দ্বীপের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে বিমানটির সাথে আকস্মিকভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিললেও এতে থাকা রোগী, তাঁর স্বজন ও ৪ জন ক্রুসহ মোট ৬ আরোহীর কোনো খোঁজ এখনো মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের ওই বিশেষ মেডিকেল বিমানে বারমুডার এক সংকটাপন্ন রোগী ও তাঁর পরিবারের এক সদস্য অবস্থান করছিলেন। আর বিমান পরিচালনায় নিয়োজিত চারজন ক্রুর সবাই ছিলেন কানাডার নাগরিক।
ফ্লাইট-সংক্রান্ত ডেটা ও তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে প্লেনটির ককপিট থেকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও মারাত্মক টেকনিক্যাল ত্রুটির বার্তা পাঠানো হয়। বার্তা পাঠানোর পরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি উচ্চতা হারিয়ে কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং একপর্যায়ে রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।
উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা পাইলটের সাথে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা চালান এবং বিমানটিতে জরুরি অবস্থা (ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করা হচ্ছে কি না তা জানতে চান। তবে জীবন-মৃত্যুর সেই চরম মুহূর্তে পাইলটের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম ২৭ ঘণ্টায় মহাসাগরের প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ বর্গমাইলজুড়ে সাঁড়াশি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বিমানের ভাসমান ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর নিখোঁজ ছয় আরোহীর সন্ধানে পূর্ণ শক্তিতে উদ্ধার অভিযান জারি রাখা হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বারমুডার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বার্ট। তিনি নিখোঁজ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং অলৌকিকভাবে ছয় আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধারের আশা প্রকাশ করেন।
