ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বর্জ্য বিদ্যুতে এবার কার্বন ক্রেডিট পাচ্ছে বাংলাদেশ

বর্জ্য বিদ্যুতে এবার কার্বন ক্রেডিট পাচ্ছে বাংলাদেশ

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বৃহৎ বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার বিশাল বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের স্বীকৃতি পাবে দেশ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এই প্রকল্পে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসছে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), ডিবিএস, এনডিবি এবং ব্যাংক অব চায়নাসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক এতে অর্থায়ন করছে। ২০২৮ সালে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বহুমুখী সুবিধা: প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বাসস-কে জানান, এ প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কেবল বিদ্যুতের দাম দিয়ে বিবেচনা করলে চলবে না। আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসির বার্ষিক খরচ হয় প্রায় ৫২০ কোটি টাকা। নতুন প্রযুক্তির এই প্ল্যান্ট চালু হলে সিটি কর্পোরেশনের সেই অর্থ সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নির্গমন হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট পাবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “অনেকে শুরুতে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি দর নিয়ে কথা বলছিলেন। তবে সার্বিক সাশ্রয় ও হিসাব কষলে কার্যকর প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকার নিচে নেমে আসবে। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বড় লাভ হলো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট পাবে।”

কার্বন ক্রেডিট কী ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: কার্বন ক্রেডিট হলো বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সনদ।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, বনায়ন বৃদ্ধি এবং কার্বন ট্রেডিংয়ে স্বচ্ছতা ও ডাটাবেজ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও কার্বন ট্রেডিং: প্রকল্পে চীনের উদ্ভাবিত উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়ানোর বিশেষ ইনসিনারেটর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা ভেজা আবর্জনা থেকেও দক্ষভাবে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। ল্যান্ডফিলের পচনশীল বর্জ্য থেকে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচন করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকারের এই ইতিবাচক ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর মাধ্যমে দুর্গন্ধ ও দূষণ থেকে রাজধানী মুক্তি পাবে এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি নতুন মডেল তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনাটি যেহেতু সুদূরপ্রসারী, তাই এখন এটির যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।”

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে