বগুড়ায় আট বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আলীম (৪২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বগুড়ার বেলতলায় শিশু ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল আলীমকে আটকের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জেলা শহরের মালগ্রাম এলাকার বেলতলায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল আলীম ওই এলাকার বেলতলা জামে মসজিদের ইমাম এবং জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবা মাদ্রাসাশিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসারই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর পরিবারের কেউ শিশুটিকে নিতে আসেনি। এ সুযোগে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে শিক্ষক আব্দুল আলীম শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। পথে একটি গলির ভেতর শিশুটিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখান।
বাড়ি ফিরে শিশুটি তার পরিবারের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ওই শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করেন এবং তাকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুল আলীমকে আটক করে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও জনতার মারধরের শিকার হন। পরে ব্যাপক পুলিশি পাহারায় তাকে থানায় নেয়া হয়।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, উত্তেজিত জনতার মাঝ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
