ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল এক হাজার ৪৪ ভরি সোনা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল এক হাজার ৪৪ ভরি সোনা

নবপ্রকাশ ডেস্ক

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গত ৬ বছরে জমা হওয়া সোনা ও রুপার বিপুল পরিমাণের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া গেছে। দিনভর গণনা ও পরিমাপ শেষে জানা গেছে, ৬ বছরে দানবাক্সে জমা হয়েছে মোট ১০৪৪ ভরি সোনা এবং ১০৮৮ ভরি রুপা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিশ্বের ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনভর বাছাই, পরিমাপ ও গণনার প্রক্রিয়া শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য মতে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে সিলগালা করা কন্টেইনার ও খামগুলো কড়া নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে নয়টি কন্টেইনারে থাকা সোনা-রুপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও পরিমাপের কাজ শুরু হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬ জন এসআরবি সদস্য। সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং পরিমাপের কাজে জেলা প্রশাসন, পাগলা মসজিদ কমিটি ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁদের কারিগরি সহযোগিতা করেন জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন পেশাদার স্বর্ণকার।

বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে গণনার ফলাফল জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, গত ৬ বছরে জমা হওয়া সোনার পরিমাণ মোট ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম (১০৪৪ ভরি) এবং রুপার পরিমাণ ১২ কেজি ৬ ৯০ গ্রাম (১০৮৮ ভরি)।

অন্যদিকে, গণনার দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, দানবাক্সে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। তবে এসব মুদ্রার পূর্ণাঙ্গ হিসাব চূড়ান্ত করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সোনা ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পর জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে। নিলামের অর্থ যুক্ত হবে মসজিদের তহবিলে। আর বৈদেশিক মুদ্রাগুলো ব্যাংকিং নিয়ম ও বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

সাধারণত প্রতি তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়। তবে নগদ টাকা গণনা করে দ্রুত হিসাব প্রকাশ করা হলেও সোনা-দানা ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা-রুপার হিসাব করা হয়েছিল। তখন ৩ বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, এবং বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাক্স ১৮ বার খোলা হলেও সোনা-রুপা পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার আয়োজন এবারই প্রথম করা হলো।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া মসজিদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি সারাদেশে অত্যন্ত সুপরিচিত। মানত পূরণ ও বরকতের আশায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে দান করে থাকেন। এসব দানের অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নমূলক কাজসহ দুস্থদের চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে