ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা

পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার ফল কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নয়; এটি নির্দিষ্ট একটি দিনে কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষায় খাতায় লেখা উত্তরের একটি হিসাব মাত্র।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি লিখেছেন, ‘আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনা ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা ও নিজের ভেতরের অস্বস্তি—সব মিলিয়ে মনে হতে পারে, সবকিছু থেমে গেছে।

তবে বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা ও সহপাঠীদের উপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের ওপর গভীর হতাশা ভর করতে পারে। এই কঠিন সময়ে তাদের হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অভিভাবকদের পাশে থাকার আহ্বান

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পেতে হয় বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে—উল্লেখ করে অভিভাবকদের তাদের বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভর্ৎসনার চাইতে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’

শিক্ষকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। একটি শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার দায় শুধু তার নিজের নয়; এর সঙ্গে অন্যদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের জীবনের গল্প এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর তারা আজকের দিনটির দিকে ফিরে তাকালে মনে হবে, সেদিন অযথাই হতাশ হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি।’

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, এসব শিক্ষার্থী একদিন দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে।

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

গত সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এ পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে