বিশেষ প্রতিবেদক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসানোর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানই নির্বাচন করছে না, একই সঙ্গে দল ও সরকার পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে। ১১২টি মামলা ও সাড়ে তিন বছরের কারাবাসের ক্যারিয়ার পার করা ফখরুল রাষ্ট্রপতি ভবনে গেলে দল সামলানোর গুরুদায়িত্ব কার কাঁধে উঠছে—এটিই এখন রাজপথের মূল প্রশ্ন।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের সমন্বয় করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে ফখরুলের বিকল্প তৈরি করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তার খালি হওয়া আসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উপনির্বাচন ও নতুন মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়গুলো সামনে আসবে। অন্যদিকে সংসদীয় ভোটাভুটিতে বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মুখোমুখি হতে হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে বিএনপির প্রার্থীর বিজয়কে কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয়ভাবে দুটি মনোনয়নপত্র তুললেও প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বিএনপি। তবে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাজপথের ত্যাগের মূল্যায়নে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই করা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির প্রার্থী।
আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। ১ আগস্টের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে শূন্য হবে তার সংসদীয় আসন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদ। পাশাপাশি দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ ‘মহাসচিব’ কে হচ্ছেন—তা নিয়ে সৃষ্টি হবে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে।
