ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » গোয়েন্দা তথ্য: ডিসেম্বরের মাঠে নতুন কৌশল নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে আ.লীগ

গোয়েন্দা তথ্য: ডিসেম্বরের মাঠে নতুন কৌশল নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে আ.লীগ

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ দিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের গোপনে সংগঠিত করা, ভারতে অবস্থানরত পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে দলটি।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি বিশেষ প্রতিবেদন সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ডিসেম্বরে নাশকতার শঙ্কা ও ‘ঝটিকা’ তৎপরতা

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতার জানান দিতে গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।

ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড়ে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশীত ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সর্তক থাকার বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এনক্রিপ্টেড প্রযুক্তির ব্যবহার ও ছদ্মবেশী আত্মগোপন

বিদেশে পলাতক শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান ও গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা এ যোগাযোগে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।

তথ্যপ্রযুক্তির এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ক্যাডাররা ঢাকার ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর ও উত্তরার মতো আবাসিক এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। নজরদারি এড়াতে এবং অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা রাইড শেয়ারিং, অটোরিকশা চালানো, বিউটি পার্লার ও মোটরসাইকেলের শোরুম পরিচালনার মতো পেশার আড়ালে আত্মগোপন করে আছে। একই সঙ্গে কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালানোর তথ্যও উঠে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিশ্লেষকদের মত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, “আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতারা বিপুল দুর্নীতির অর্থ ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার স্মৃতি মানুষের মনে এখনো টাটকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের কোনো সমর্থন তারা পাবে না।” তারপরও চরমপন্থি ও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রুখতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেন তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেঝর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী জানান, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সাময়িক অস্থিরতা ছিল তা কেটে গেছে এবং তাদের সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা রুখে দেওয়া সম্ভব।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কোনো মহল অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে