ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » উৎপাদনহীন কারখানায় ভূয়া রপ্তানি: ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

উৎপাদনহীন কারখানায় ভূয়া রপ্তানি: ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে কাগজে-কলমে ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার বিশাল রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কথিত তৈরি পোশাক ও কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানায় সরেজমিন অভিযান চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর বন্ড জালিয়াতি উন্মোচিত হয়েছে।

এনবিআরের প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ প্রিভেনটিভ টিম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজিমিজি দক্ষিণ পাড়ার বি/২৪০ নম্বরে অবস্থিত ‘ইউএজিএম বিডি লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে কড়া অভিযান পরিচালনা করে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর আওতাধীন এই প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় পিভিসি ফ্লেক্স, পিভিসি ফিল্ম, পেট ফিল্ম, আর্টিফিশিয়াল লেদার, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও কালার বোর্ডসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে আসছিল।

বিদ্যুৎ বিল ও মেশিনপত্র পরিদর্শনে ধরা পড়ল থলের বিড়াল

অভিযানের সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত উৎপাদনের তথ্যের সঙ্গে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল মিলিয়ে দেখতে গিয়ে চরম অসংগতি দেখতে পান। সংগৃহীত বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ বিপুল পণ্য উৎপাদনের দাবি করেছে, বাস্তব বিদ্যুৎ ব্যবহার তার ১ শতাংশের কম। কারখানায় বিকল্প কোনো মেগা বিদ্যুৎ সংযোগ, নিজস্ব জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসচালিত উৎপাদন ব্যবস্থারও অস্তিত্ব মেলেনি।

এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা ফ্লোর পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান, উৎপাদনের জন্য যেসব দামি মেশিনপত্র কাগজে দেখানো হয়েছিল, তার সবই অব্যবহৃত ও অকার্যকর অবস্থায় স্তূপাকারে জমে আছে। উৎপাদন কার্যক্রম চালনার মতো নূন্যতম পরিবেশও ছিল না সেখানে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) নিয়ে কাগজে-কলমে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে ১০০% রপ্তানি দেখালেও প্রকৃতপক্ষে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সকল কাঁচামাল অবৈধভাবে স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে।

৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির মামলা চূড়ান্ত

সংগৃহীত আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ বিল ও ইউপি সংক্রান্ত নথিপত্র দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে মোট ৮৫ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকার সরাসরি রাজস্ব ফাঁকির চূড়ান্ত প্রমাণ মিলেছে। এই গুরুতর অপরাধে মামলা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশীয় রপ্তানিমুখী শিল্পের সুরক্ষায় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা অত্যন্ত জরুরি হলেও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধার চরম অপব্যবহার করছে। এতে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি প্রকৃত দেশীয় ও সৎ শিল্প উদ্যোক্তারা চরম অসংগঠিত ও অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শুধু কাগজের নথি দেখে নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহার ও আধুনিক কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বন্ড জালিয়াতি রোধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর প্রিভেনটিভ নজরদারি চলমান থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে