নবপ্রকাশ ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ সহায়তা পেতে হলে সংস্থাটির নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে ঋণের শর্তাবলি এবং তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনেকখানি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে এই কর্মসূচির আওতায় কী কী শর্ত যুক্ত থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। কিছু নীতিগত বিষয়ে দুই পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
আইএমএফের পর্যবেক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা, রাজস্ব-জিডিপি (Tax-GDP) অনুপাত বৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ (Recapitalization) এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংস্থাটির বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণের গুরুত্বের সাথে বাংলাদেশেরও পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আইএমএফের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব আদায় নিয়ে আইএমএফের যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তার সঙ্গে আমরাও একমত। এরই মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার সূচক পূরণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে।”
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অর্জনে আইএমএফ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট-পরবর্তী অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতসহ বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার সক্ষমতাকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।
অর্থমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, কেবল আইএমএফ নয়—বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গেও সমতার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে বাংলাদেশ। দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে বেগবান ও সুসংহত করতে এসব সংস্থার সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
