দেশে কৃষক কার্ড চালু হচ্ছে আজ থেকে

নবপ্রকাশ রিপোর্টঃ
সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় দেশে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে ।
মঙ্গলবার বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
দরিদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজার কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি সারা দেশের সকল কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কার্ডের নামে ‘কৃষক’ শব্দটি থাকলেও এটি কেবল ভূমিচাষীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ।
কৃষকদেরকে ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক’ – এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এর মধ্যে পাঁচ শতকের কম জমি রয়েছে যাদের, তাদেরকে ফেলা হচ্ছে ভূমিহীন ক্যাটাগরিতে।
পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক যেসব কৃষক, তারা পড়ছেন প্রান্তিক শ্রেণিতে।
এর বাইরে, কৃষকদের মধ্যে যারা ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক, তারা ক্ষুদ্র এবং যারা ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতকের মালিক, তারা মাঝারি কৃষকের শ্রেণিতে পড়ছেন।
অন্যদিকে, যাদের জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি, তাদেরকে বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
তাদের মধ্যে দুই হাজার ২৪৬ জনই ভূমিহীন বলে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বাকিদের মধ্যে প্রায় নয় হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক, আট হাজার ৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক, এক হাজার ৩০৩ জন মাঝারি কৃষক এবং ৯১ জন বড় কৃষক রয়েছেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
